শেখ হাসিনার পতনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) শুক্রবার আত্মপ্রকাশ করেছে। এই দল গঠনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষত নতুন কমিটিতে জায়গা পাওয়া মুনতাসির মামুনের বিরুদ্ধে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের কারণে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে, যেখানে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে মুনতাসির মামুন পশ্চিমা এলজিবিটিকিউ এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিকভাবে কাজ করবেন।
এ পরিস্থিতিতে, নতুন রাজনৈতিক দলের দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের দুই মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, "রাজনীতির আগেও আমার পরিচয়, আমি একজন মুসলমান। আমি আমার এই পরিচয় ধারণ করি, সবসময় করেই যাবো।" তিনি আরও বলেন, "আমার বিশ্বাসকে কিংবা আমার দেশের মানুষের বিশ্বাসকে আঘাত করে কোনো রাজনীতি আমি কখনও করবো না।" তিনি জানান যে, মুনতাসির মামুনের বিষয়টি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল এবং তারা ভুল সংশোধন করবেন।
সারজিস আলমও একই বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি বলেন, "রাজনীতির আগেও আমার পরিচয়- আমি একজন মুসলমান। আমি আমার এই পরিচয় ধারণ করি, সবসময় করেই যাবো।" তিনি জানান যে, ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থি কোনো কিছু তাদের রাজনীতিতে স্থান পাবে না এবং যে ভুল হয়েছে, তা সংশোধন করা হবে।
এদিকে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত মাহিন সরকার তাঁর ফেসবুক পোস্টে মুনতাসির মামুনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত না থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "মুনতাসির ভাই আমাদের সেফ হোমের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন, কিন্তু উনার এমন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমি অবগত নই। আল্লাহর কসম! বঙ্গদেশে আমরা সমকামিতাকে চাই না।"
এ ধরনের বিতর্কের ফলে এনসিপির মধ্যে শুদ্ধি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং দলের নেতারা ভুল সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।